কবিতা - দেওয়ালে ঝুলছে ছবি

*দেওয়ালে_ঝুলছে_ছবি*
                *✍️সুশান্ত পাড়ুই*

দেওয়ালে ঝুলছে ছবি
স্টেথোসকোপে জমেছে ধুলো
টেবিলে পুড়ছে ধুপ
বাইরে আঁধার ডাকছে শৃগাল গুলো।
###################

*এই তো সেদিনের কথা*

####################

—কই গো শুনছো,, সোনা মা কে ডাকো
ও ডাক্তারি তে চান্স পেয়েছে
সোনা মা, ওওওওওওওও দামিনি
কোথায় গেলি রে মা,, ছুট্টে আয়
দেখে যা কতো মিস্টি এনেছি.....

—ওওওওওওওও তাই
ভগবান আমাদের মুখ তুলে চেয়েছে,,,,
দেখো আমাদের দুঃখের দিন একদিন শেষ হয়ে যাবে,,,, 
দামিনি কম্পিউটারের ক্লাসে গেছে
এখুনি চলে আসবে
দাঁড়াও খবর টা সবাইকে বলে আসি.....

—তোমাকে যেতে হবে না
আমি সবাইকে বলে এসেছি
বলে এসেছি,,,, আমাদের সোনা মা দামিনি ডাক্তার হবে
আর জি কর হাসপাতালে ডাক্তারি পড়বে
ওরা সবাই হয়তো এখুনি চলে আসবে.......

—ও দিদি,, শুনলাম আমাদের দামিনি ডাক্তার হবে
ওকে ডাকো,,, প্রাণ ভরে আশীর্বাদ করে যাই
এবার আর বাইরে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে হবে না
আমাদের ঘরের মেয়ে ডাক্তার
দিদি,, আমাদের রোগ হলে দামিনি দেখবে তো!!

—কি যে বলো রুনুর মা ....
আমাদের দামিনি সব গরীব মানুষের সেবা করবে......

—হ্যারে হারান,,, শুনলাম আমাদের দামিনি ডাক্তার হবে
আর জি কর হাসপাতালে পড়তে যাবে
খবরটা শুনেই চলে এনু ........

—হ্যাঁ গো খুড়ো,, তুমি ঠিক শুনেছো,, তোমার আদরের নাতনি দামি,,, ডাক্তারি তে চান্স পেয়েছে,,, ওকে আশীর্বাদ কোরো......

—হ্যাগো ঠাকুর ঝি,,, শুনলাম আমাদের দামিইইই ডাক্তার হবে?
কি আনন্দ,, ঠাকুর তুমি মুখ তুলে চেয়েছো.....

—হ্যাঁ দিদি,,, ওকে আশীর্বাদ করো,,, ও যেন অনেক বড় হয়...
##################

—দামি কোথায় গেলি রে...... দামি ভাই..... 
হ্যাঁ গো বৌমা,, দামি কে ডাকো তো একবার
কদিন ধরেই বাঁদিকের কসের দাঁতটা নড়ছে,,,, 
ফুলেছে,, সারাক্ষণ কেমন টনটন টনটন করছে

—আচ্ছা বাবা,, দামিনি ফিরলে বলব
ওষুধ দিয়ে দেবে.......
এখন আমি বরং নুন জল গরম করে দিচ্ছি,, কুলকুচি করে শুয়ে পড়ুন.....

— দামিনি আসেনি বুঝি......
####################

দেওয়ালে ঝুলছে ছবি
স্টেথোসকোপে জমেছে ধুলো
টেবিলে পুড়ছে ধুপ
বাইরে আঁধার ডাকছে শৃগাল গুলো।

####################

— হ্যালো,, কে বলছেন?
—আমি আর জি কর হাসপাতাল থেকে বলছি,,,,
গতকাল রাতে আপনাদের মেয়ে আত্মহত্যা করেছে.....

— না!!!!!! এ হতে পারে না,,, দামির বাবা,,, শুনছো ......

*শূন্য এ বুকে পাখি মোর আয়*
*ফিরে আয় ফিরে আয়......*

####################

দেওয়ালে ঝুলছে ছবি
স্টেথোসকোপে জমেছে ধুলো
টেবিলে পুড়ছে ধুপ
বাইরে আঁধার ডাকছে শৃগাল গুলো।
####################

ক্লান্ত ভীষণ জানতো না সে 
এটাই শেষের রাত 
ওৎ পেতে কে দাঁড়িয়ে আছে 
বের করে নোখ-দাঁত। 
গোটা শরীর জুড়ে কেবল
শুধুই ক্ষত'র দাগ
হায়নারা তার কাম-কামনার
মিটিয়ে গেছে রাগ।
যে মেয়েটির স্বপ্ন ছিলো 
করবে রুগির সেবা
সেই মেয়ে আজ কোথায় গেলো 
উত্তর দেবে কে বা!
যে মেয়েটি ফিরিয়ে দিতো 
লক্ষ লোকের প্রাণ 
বড়ই হতাশ এখন সে লাস
অচেতন নিস্প্রাণ।
####################

মা আমাকে বাঁচাও
ওরা আমাকে বাঁচতে দেবে না
ওরা আমাকে মেরে ফেলবে মা
প্রিন্সিপাল স্যার,, আমাকে বাঁচান,, আমাকে বাঁচতে দিন......
আমি মানুষের সেবা করতে চাই.....
আমাকে বাঁচতে দিন......
####################

*সেই চিৎকার কারো কানে গিয়ে পৌঁছালো না*

####################

দেওয়ালে ঝুলছে ছবি
স্টেথোসকোপে জমেছে ধুলো
টেবিলে পুড়ছে ধুপ
বাইরে আঁধার ডাকছে শৃগাল গুলো।
####################

একশো তেরো কামড় ছিল
হাড়গোড় সব ভাঙা
দেড়শো ফ্লুইডস ভ্যাজাইনা তে 
শরীর রক্তে রাঙা ।
গণ-মস্তির জবর খোরাক 
রেপ এর মহোৎসব
ধীরে ধীরে নিভলো প্রদীপ 
বন্ধ হলো রব।
চোদ্দ তলায় খবর গেলো
হিসেব খানি মাপা
লালবাজারে গ্রিন সিগনাল
করতে ধামাচাপা।
হাসপাতালে এলো ছুটে 
হাজার খানেক পুলিশ
একটা সিভিক পড়লো ধরা
সবাই বোধহয় ফুলিশ!
রাহু কেতু সবাই রেডি
রেডি গ্রহরাজ
বাবা মাও জানলো না তার 
মিটলো দাহকাজ।
ভোটার লিস্টে মুছে গেলো 
কেবল একটা নাম 
দশ লক্ষের অফার এলো
সেই মেয়েটার দাম।
বাতাস বয়ে এলো আগুন 
উড়লো দাহের ছাই
লক্ষ কণ্ঠে উঠলো আওয়াজ
বিচার চাই বিচার চাই।
ডাক্তার নার্স আমজনতা
নামলো পথে সবাই 
নামলো সবাই,,, কেবলমাত্র 
একটা মেয়েই নাই।
শাসক তুমি শুনতে কি পাও
প্রশ্ন অনেক গুলো
লক্ষ্মী রা আজ তুলছে আওয়াজ 
কানে কি পৌঁছুলো?
###################

দেওয়ালে ঝুলছে ছবি
স্টেথোসকোপে জমেছে ধুলো
টেবিলে পুড়ছে ধুপ
বাইরে আঁধার ডাকছে শৃগাল গুলো।

                *✍️সুশান্ত পাড়ুই*

Comments

Popular posts from this blog

কানপুরের জগন্নাথ মন্দির

শ্রীরামপুর - এর ইতিহাস ( ভাগ - ১ )