কানপুরের জগন্নাথ মন্দির


আপনার যদি তাজমহল, লালকেল্লা, কুতুব মিনার কে অত্যাশ্চর্য মনে হয় তাহলে এই মন্দিরের কাহিনী শুনুন।
বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয় কানপুরের এই জগন্নাথ মন্দির। আপনি কল্পনা করতে পারেন এমন কোন ভবনের যার ছাদ থেকে প্রখর রোদে টপটপ করে জল পড়ছে আর বৃষ্টি শুরু হওয়ার সাথে সাথে ছাদ থেকে জল পড়া বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
কানপুর শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে ভিতরগাঁও বেহাতার ঘতমপুর এলাকায় রয়েছে এই জগন্নাথ মন্দির।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে কখন কতটা বৃষ্টি হবে ভারী, মাঝারি, না ছিটেফোঁটা বৃষ্টি হবে সব কিছুর‌ই আগাম ইঙ্গিত দেয় এই মন্দির।
বৃষ্টির 6-7 দিন আগেই এই মন্দিরের ছাদ থেকে জলের ফোঁটা পড়তে শুরু করে। সেই ফোঁটার আকার দেখেই বুঝা যায় কতটা বৃষ্টি হবে। সবচেয়ে চমকপ্রদ ব্যাপার বৃষ্টি শুরু হলেই মন্দিরের ছাদ থেকে জল পড়া বন্ধ হয়ে যায় আর মজার ব্যাপার হলো মন্দিরের ছাদে কিন্তু কোন ফাটল নেই। এলাকার আশেপাশের ৩৫টি গ্রামের বাসিন্দারা এই মন্দিরকে রেন টেম্পল নামে ডাকেন।
এই মন্দির কবে তৈরি হয়েছে তার কোন সঠিক তথ্য নেই।
মন্দিরের গঠন অনেকটা বৌদ্ধ মঠের মত। এর দেওয়াল ১৪ ফুট মোটা যা দেখে সম্রাট অশোকের আমলে নির্মিত হবে বলে অনুমান করা হয়। আবার মন্দিরের বাইরে ময়ূরের চিহ্ন এবং চক্র দেখে একে সম্রাট হর্ষবর্ধনের আমলে নির্মাণ হওয়া বলে মনে হয় কিন্তু এর নির্মাণের সঠিক অনুমান এখনো করা যায়নি। 
এই প্রাচীন মন্দিরের ভিতরে জগন্নাথের মূর্তি আছে। এই মূর্তিটিতে ভগবান শ্রী হরি বিষ্ণুর ২৪টি অবতারের দেখা পাওয়া যায়। এই ২৪টি অবতারে কলিযুগে অবতারিত ভগবান কল্কির মূর্তিও রয়েছে। এই মন্দিরের গম্বুজের উপর এমন একটি বৃত্ত রয়েছে যার কারণে আজ পর্যন্ত মন্দিরের চারপাশে বজ্রপাত হয়নি।


সংগৃহীত 

Comments

Popular posts from this blog

শ্রীরামপুর - এর ইতিহাস ( ভাগ - ১ )