এবং রবীন্দ্রনাথ - ২

এবং রবীন্দ্রনাথ  (১)  #সুমি

‐বৌমা, মেয়ের জন্মদিন না করলেই কি নয়?
শাশুড়ির কথাটা উমুর মায়ের খুব মনে লেগেছিল সেদিন। 
শেষে নতুন এসে বড়ঘরের তক্তপোষে বসে বলেছিল, 
‐এ কি বলছেন মা? আপনাদের যুগ বদলেছে মানতে হবে সবকিছু।

নতুন। উমুর বাবার ঠিক আগের ভাই। মানে উমুর নতুন জেঠু। বাড়িতে সবাই নতুন বলে ডাকে। সবাই। জাঠতুতো দাদা দিদি, পিসতুতো দিদি, জেঠুরা, ঠাকুমা। সেই শুনে উমুও নতুন বলে ডাকে। উমুর মা রাগ করে কতবার বলেছে,
"বড়দের নাম ধরে ডাকতে নেই।" 
উমু কথা শোনেনি। অভ্যেস হয়ে গেছে তার।
শ্যাম নগর স্টীল ফ্যাক্টারীতে কাজ করত নতুন। বড় চাকরী, অনেক মাইনে।
বাড়ি আসতো যখন, তখন সকলের জন্য এতো কিছুই আনতো যে তার ইয়ত্তা নেই।  কখনও ফল, কখনও বিস্কুট, ঝুরিভাজা, কখনও পোর্সিলিনের কাপ প্লেট, আরও কত কি।

উমুর বাবারা ছয় ভাই এক বোন।
উমুর বড় জেঠু বোনের কষ্ট মানতে পারেনি বলে, একদিন বিকেলে বোনকে শ্বশুর বাড়ি থেকে নিয়ে চলে এলো বালির বাড়িতে। সেই আসা। আর যায়নি কখনও শ্বশুর বাড়ি।
তখন উমু খুব ছোটো । সব দেখতো। কিন্তু সবকিছু বুঝতে পারতো না ঠিক মতো।
বিদ্যুৎলতা মানে উমুর ঠাকুমার বড় ছেলে পান্নালাল ব্যাঙ্কে চাকরি করত। দরাজ মনের মানুষ। অনেকটা বাবা নন্দলাল বসুরায়ের মতো। মেজো জওহরলাল কলকাতার নামকরা গ্র্যান্ডহোটেলের ক্যাসিয়ার। সেজো অনেকটা পূর্ব পুরুষ 
কৃষ্ণধনের মতো বোহেমিয়ান গোছের। গান বাজনা নিয়েই কাটিয়েছিলেন সারাটা জীবন। অবশ্য একটা টেলারিংএর দোকানও ছিল ছোটমোটো।
লোক খাটতো সেখানে।
বালি নিমতলায় বাস থেকে নেমে  হেঁটে আসার সময় উমুর মা মাথায় ঘোমটা দিত শাড়ির আঁচল দিয়ে। মাকে বেশ লাগতো তখন। 
রাস্তার ধারেই মানিক টেলারিং। উমুর হাত ধরে রাস্তা পার করে সেজোজেঠুর দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে পড়ত মা।
সেজোজেঠু বলত
"বৌমা, এই এলে?"
"হ্যাঁ। আপনি ভালো আছেন তো?"
"আমার তো এইভাবেই চলা। জানোই তো।
যাও যাও বাড়ি যাও। মা অনেকক্ষণ থেকে বসে আছেন তোমাদের জন্য।"
বলে, উমুর থুতনি ধরে আদরের ভঙ্গিতে
নিজের ঠোঁটে থুতনি ধরা হাতটা ছুঁয়ে চুমু খেতো আর মুখে বলত,
"আমার সোনামনাটা"

ক্রমশ

Comments

Popular posts from this blog

কানপুরের জগন্নাথ মন্দির

শ্রীরামপুর - এর ইতিহাস ( ভাগ - ১ )