বিবাহ বার্ষিকী পালন
বিবাহ বার্ষিকী পালন -
৪ ঠা মার্চ বিবাহ বার্ষিকী গেছে। মা ফোন করে এখন কিছু মনে রাখতে পারে না তাই আমি প্রণাম জানালাম। ছোট মাসির ১০ ই মার্চ বিয়ে হয়েছিল আমার পরে।মানে আমার বিয়ে ঠিক হবার পর মাসির বিয়ে ঠিক হয়ে যায়। তাই মাসি আমার বিয়ে দেখতে পেলেও আমি মাসির বিয়েতে থাকতে পারিনি।অষ্টমঙ্গলায় গিয়ে আমি বাপের বাড়িতে থেকে যাই কারণ আমার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। বাড়ির সবাই বলে ছিল এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে দেবো না কিন্তু আমার শাশুড়ি নাছোড়বান্দা বিয়ে হয়ে যাক তারপর পরীক্ষা দেবে। ছোট মাসি সকালে ফোন করে বিবাহ বার্ষিকীর আশীর্বাদ করার জন্য। আমি তখন কোন রকমে পোলাও ও পনীরের তরকারি করে শুয়ে পড়েছি। মুখে কোন স্বাদ নেই কি খাচ্ছি জানিনা।সব খাবার পড়েই ছিল কিছু খেতে পারছিলাম না। কিছু আনতে হবে কিনা কর্তা জিজ্ঞেস করেছিল আমি বললাম না তোমার ইচ্ছে হলে আনো আমি খাবো না। তাই কিছু আনা হয়নি। ছবি দিতে বলছে তাই পুরনো বিয়েবাড়ির একটা ফটো বিবাহ বার্ষিকী লিখে পোস্ট করেছিলাম। জানিনা কত জন দেখতে পেয়েছে।
সেদিনও কয়েক লাইন লেখার চেষ্টা করে ছিলাম কি লিখছি কি করছি সর্দিকাশি জ্বরে কাবু কি লিখেছি কে জানে সেটাও নিচে দিচ্ছি।
কেমন কাটালে তুমি ?
প্রশ্ন খুঁজি অবাক হয়ে আমি।
নেই প্রতি উত্তর জবানি
লোকের প্রশ্নের উত্তর কি দেবো কি জানি
সম্পর্কের টান ছিল আছে
দায়িত্ব বোধ তাও জানিনা
পরম আত্মীয়দের আবদারে
একটু ভালো থাকার চেষ্টা করি
বলে ছবি দাও দুজনের
কি করে বলি ১০ দিন ভালো করে
চান করতে পারিনি
কি দেবো ছবি ?
একটু পোলাও ও পনীর করার চেষ্টা করেছি
জানিনা কি করতে পেরেছি
অবাক জীবন অবাক পৃথিবী
কি করে জানবো
আমি কি চাই তাই জানিনা
অপর পক্ষের চাহিদা কি ছিল
তাও জানিনা।
মা,মাসির ফোন এলে মনে করায় সত্যি তো
এতো বছর কাটিয়ে দিলাম ৪০ বছর।
"এক প্রান্তের বিস্ময় আসে
আরেক প্রান্তে পায় প্রকাশ
কেমন ছিল দিন গুলো
রাস্তা ছিল না সমান্তরাল
এখনো ঠিক অভ্যাসটার
বদল ঘটাতে পারিনি
তাদের মুখ থাকে নিশ্চিত
আমাদের দিকে চেয়ে আশাতীত "
রং মিলান্তির হিসেবটা ঠিক জানতাম না
মা বাবার কথার অবাধ্য হবো
এই অধিকার আমি নিজেকেও দিইনি
তাই ঠিক বলতে পারব না ঠিক হিসেবটা পেয়েছি কিনা।
এবার আরো কিছু কথা বলি । খবরের কাগজ, মোবাইল ইত্যাদি তে একাধিক বিবাহ করছে তার আগে তারা একাধিক বিয়ে ভেঙ্গেছে,বিশেষ করে এই আমার বিবাহ বার্ষিকীর সময়ে । তাই ভেবেছিলাম আমারও তো অনেক বিয়ে হয়েছে সেগুলো আজকে বলবই আমি বা পিছিয়ে থাকবো কেন ? প্রথম কথা বলতে শিখেছি দাদা মামার বাড়িতে থাকতো পড়াশোনা করার জন্য ছুটিতে বাড়ি আসতো। ছোড়দা পরে যায় মামার বাড়ি পড়াশোনার জন্য।বড়দা কে শুধু দাদাই বলি । একটা কাগজ নিয়ে আঁকিবুকি কাটছিলাম।দাদা বলল দে আমি একটা ছবি এঁকে দি , কাগজ পেন্সিল নিয়ে একটা গোল মুন্ডু ও কাঠি কাঠি হাত,পা আঁকলো। আমি বলি তখন একটু সুর করে কথা বলতাম তাই বললাম দাদা রে এটা কি? দাদা বলল এটা তোর বর যা মাকে দেখিয়ে আয় । আমি আবার বলি দাদারে বর দেখে যে ভয় লাগে।এই হলো আমার প্রথম বরের সাথে পরিচয়।
এবার যাই দ্বিতীয় বরের পরিচয়ে তখন অনেকটা বড় হয়েছি স্কুলে ভর্তি হয়েছি । পাড়াতে পুতুলের বিয়েতে নেমন্তন্ন পেতে শুরু করেছি। প্রথমে তো কি দিতে হয় তাই জানতাম না।পরে আস্তে আস্তে সব শিখলাম নিজেই করতাম মা খুব একটা সময় পেতো না। বাবা ধুতি পরতো সেই ধুতি ছিঁড়ে তাতে আলতা আর কালী দিয়ে ববি প্রিন্টের মতো ডিজাইন করতাম। তারপর সেটা দেশলাই বাক্সে বা সিগারেটের বাক্সে ভরে ওপরে রাংতা দিয়ে মুড়ে সুন্দর করে সাজিয়ে দিতাম। বেশিরভাগ মা রাই লুচি ঘুগনি তৈরি করে দিতো বিয়ে উপলক্ষে। আমিও দিয়েছিলাম পুতুলের বিয়ে কিন্তু মেয়ের বিয়ে আমি দেবো না ছেলের বিয়ে দেবো কারণ আমার পুতুল তো দিয়ে দিতে হবে। তাই কথা বলে বললাম আমার ঘরের বর বউ দুটোই থাকবে তোমরা এসে বিয়ে দিলেই হবে। তবে এই দ্বিতীয় বরের সঙ্গে বউকেও খুব ভালোবাসতাম।
তাই বলি একদম কথা বলার সময় থেকেই আমার বরের সঙ্গে পরিচয়। আরো একটু করে বড় হতেই থেকেছি আর সত্যি সত্যি আমার মা বাবার কাছে নতুন নতুন লোক এসেই গেছে।কেউ কেউ আমাকেও এসে বলেছে তোমাকে দেখতে এলাম মা কে ডেকে দাও তো।মা কে বললাম আমাকে বলছে দেখতে এসেছে তুমি যাও।মা সরাসরি না বলেছে বাবা অবধি যেতেই হয়নি।যখন আমার মেয়ের বিয়ের বয়স হবে তখন বলবো যাই হোক এই রকম প্রায় রোজ আসতো।গুনতি নেই মা , বাবা, দাদা সবাই অতিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল। তাই এই শেষ বর ও আমাকে দেখতে যায়নি শাশুড়ি পিসির বিয়েতে দেখে আর ছাড়েনি। বিয়েতে প্রতিটি মুহূর্তে আমার সঙ্গে ছিল। আমার আরো তিন বোন বা দিদি আমরা পিঠোপিঠি একসঙ্গে ছিলাম। সবাই বলছে এই বুড়িটা তোকে ছাড়ছে না কেন বলতো? পায়খানা থেকে বেরিয়ে দেখছি সেখানেও দাঁড়িয়ে। তারপর মা , বাবা কে আড়ালে বলে। বাবা মা রাজী না হলেও জোর করে রাজী করায়। ফিরে গেলে দাদা ও ছোট মামা রাজী হয়না তোমরা গ্রেজুয়েশন না করলে বিয়ে দেবে না বলো। বাবা চিঠি পাঠায় আমাকে ক্ষমা করবেন আমার পক্ষে এতো ছোট বয়সে বিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তারপর শশুর মশাই আবার পাল্টা চিঠি দেন বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। এবার বাবা ছোটমামা, দাদাকে বলে তোরা দেখা করে না বলে আয় । আমার শাশুড়ি তো তাদের পেয়ে মহা আনন্দে নাছোড়বান্দা রাজী করিয়েই ছাড়ে ।মামা,মাসী কারুর বিয়ে হয়নি তাই সেই সব দায়িত্ব বাবার ছিল।যাই হোক মাঝের অনেক বরের সাক্ষাৎ আমি পাইনি যে কয়জনের কথা কানে এসে ছিল সেগুলো তুলে দিলাম।
আমাকে পাঠিয়ে আমাদের বাড়িতে সেই কদিন বাড়ির লোকজন কিছু করতে পারেনি সব রান্না করে বাড়ির সবাই কে খাইয়েছে পাড়ার সবাই তারা নিজেরাও খেয়েছে। সেই থেকে বাবা, মায়ের কর্তব্য পালন করে চলেছি। বিয়ে যে আনন্দের জিনিস তাও জানতাম না। এখন একটু চেষ্টা করলাম সবাই এতো বিয়ে ধরছে আর ছাড়ছে আমি বা কম যাই কেন?
✍️ স্বপ্না ব্যানার্জী
Comments
Post a Comment