Vitamin - D , deficiency

ভিটামিন ডি-র ঘাটতির সঙ্কেত
শরীরে ভিটামিন ডি-র স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি মিলিলিটারে ২০ থেকে ২৫ ন্যানোগ্রাম। আবার ৫০ থেকে ৮০ ন্যানোগ্রাম বেশ বেশি। বোন পেন, স্কিন এগজ়িমা, অতিরিক্ত চুল পড়া, ক্লান্তি, অবসাদ ইত্যাদি ভিটামিন ডি-র অভাবের সঙ্কেত। তবে এগুলো প্রাণদায়ী নয়, কিন্তু রোজকার সুস্থ স্বাভাবিক জীবনের পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়। দীর্ঘদিন ভিটামিন ডি-র অভাব নানা জটিল রোগের জন্ম দেয়। ‘‘হাড়ে, পিঠে, কোমরে, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা হলে সচেতন হবেন। বিশেষত বয়স্করা। বাতের জন্য বা অন্য অসুখের জন্যও হাড়ে ব্যথা হতে পারে। কিন্তু ভিটামিন ডি-র অভাবেও বোন পেন হবে। হাড়ে ব্যথা হয় কারণ ক্যালশিয়াম ও ফসফরাসকে হাড়ের মধ্যে ঢুকতে ভিটামিন ডি সাহায্য করে। এই ভিটামিনের অভাবে ক্যালশিয়াম তৈরিতে বাধা পড়ে,’’ বললেন ডা. সুবীর মণ্ডল। ভিটামিন ডি সরাসরি ত্বকের মধ্য দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে। তাই এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে ত্বক জানান দেয়। এ ব্যাপারে ত্বকবিশেষজ্ঞ ডা. সন্দীপন ধর বললেন, ‘‘অ্যাটোপিক এগজ়িমার চিকিৎসায় ভিটামিন ডি প্রয়োগ করে বেশ সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। এমনকী আর্টিকেরিয়া বা আমবাতের চিকিৎসাতেও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট ভাল কাজ করছে। হঠাৎ করে গোছা গোছা চুল পড়তে শুরু করলে সজাগ হবেন। অনেকেই এটাকে অ্যালোপেশিয়া ভাবেন। কিন্তু হঠাৎ করে অ্যালোপেশিয়া হতে পারে না। এটা ভিটামিন ডি-র অভাবে হতে পারে। এ ক্ষেত্রেও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট ভাল কাজ করে। ত্বকের সমস্যা নিয়ে এলে রক্ত পরীক্ষার মধ্যে অবশ্যই ভিটামিন ডি পরীক্ষা করতে দিই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঘাটতি থাকে এবং ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট প্রয়োগে তা ঠিকও হয়েছে।’’
মহিলাদের গর্ভাবস্থায় সচেতন থাকতে হবে ভিটামিন ডি-র মাত্রা নিয়ে। ‘‘ডাক্তারি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে ভিটামিন ডি-র অভাবে গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, প্রি-প্রেগন্যান্সি লেবার, অবসাদের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। ভিটামিন ডি-র অভাবে মায়ের বোন হেলথের সমস্যা হলে তা সন্তানের মধ্যেও সঞ্চারিত হতে পারে। তাই গর্ভধারণের আগে মহিলারা ভিটামিন ডি-র মাত্রা পরীক্ষা করিয়ে নিতে পারেন,’’ বললেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. চন্দ্রিমা দাশগুপ্ত।
এই ভিটামিনের অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে। ফলে সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। যাঁদের ঘনঘন সর্দি কাশি, অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাঁদের ভিটামিন ডি-র মাত্রা পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া ভাল। ‘‘অনেকের নখ ভঙ্গুর হয়। প্রাথমিক ভাবে মনে হতে পারে আয়রনের অভাব, কিন্তু এরও অন্যতম কারণ ভিটামিন ডি-র অভাব,’’ বললেন ডা. ধর। ভিটামিন ডি শরীরকে কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করে। তাই এর অভাবে অল্প কায়িক শ্রমেই হাঁপ ধরে যায়, ক্লান্ত লাগে। এ ছাড়া মনের উপরে প্রভাব ফেলে। অকারণে বিষন্নতা, খিটখিটে মেজাজ এবং অবসাদ দেখা দিতে পারে।

Comments

Popular posts from this blog

কানপুরের জগন্নাথ মন্দির

শ্রীরামপুর - এর ইতিহাস ( ভাগ - ১ )