The first woman mathematician
Hypatia
-------- _The 1st woman mathematician_
মেয়ে হয়ে জন্মানোর জন্য ধর্মান্ধ মানুষেরা এই অসাধারণ বিজ্ঞানী এবং গণিতবিদকে কেটে টুকরো টুকরো করে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে দেড় হাজার বছর আগে।
বিজ্ঞানী হাইপেশিয়ার জন্ম ৩৭০ সালে। দার্শনিক "থিয়ন" এর মেয়ে।
হাইপেশিয়া আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরিতে নিয়মিত বক্তৃতা করতেন। দূর-দূরান্ত থেকে জ্ঞানী মানুষেরা আসতেন তার বক্তৃতা শুনতে, রীতিমতো টিকিট কিনে।
যে সময়ে মেয়েদের মানুষ বলে গণ্য করাও হতো না সেই সময়ে হাইপেশিয়া শুধু যে একজন তুখোড় গণিতবিদ, সফল পদার্থ বিজ্ঞানী, প্রতিভাময় জ্যোর্তিবিদ আর নিউপ্লেটোনিক দর্শন ধারার প্রধান ছিলেন তা নয়, তিনি ছিলেন আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির শেষ গবেষক।
হাইপেশিয়ার সময়ে খ্রিষ্টবাদ প্রচার হতে শুরুকরে। হাইপেশিয়া এই ধর্মগ্রন্থ পড়ে দ্বিমত পোষণ করেন। হাইপেশিয়া মনে করতেন ধর্ম হতে হবে যুক্তিনির্ভর ও জ্ঞানভিত্তিক এবং তার বক্তৃতায় সেটা উল্লেখ করেন।
একজন মেয়ে হয়ে এরকম সাহসী কথার জন্য মানুষগুলো খুব বিরক্ত হয়, শেষমেশ তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র হয়।
৪১৭ খ্রিস্টাব্দে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়ি থেকে বের হয়েছেন মাত্র কাজে যাবার জন্য, ধর্মান্ধ মানুষেরা ঘিরে ধরে টেনে গাড়ি থেকে নামিয়ে বিবস্ত্র করে নিয়ে যায় পাশের গির্জায়, শরীর থেকে মাংস খুবলে নিয়ে তাকে টুকরো টুকরো করে কেটে আগুনে নিক্ষেপ করে হাইপেশিয়াকে হত্যার সাথে সাথে আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরিরও দিন শেষ হয়ে যায়। এই লাইব্রেরিকে ঘিরে যে সভ্যতার জন্ম হয়েছিল, সেই সভ্যতার বিকাশ থমকে দাঁড়ায়। একদিন দু'দিন নয়, প্রায় এক হাজার বছরের জন্য।
কোপার্নিকাস, গ্যালেলিও, নিউটনরা এসে সেই অন্ধকারকে দূর করার চেষ্টা শুরু না করা পর্যন্ত পুরো পৃথিবী এক হাজার বছরের জন্যে অন্ধকারে ঢাকা পড়েছিল !
আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির ১০ লাখের ওপর বই পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল,কারা করেছিল সেটা নিশ্চিত ভাবে কেউ জানে না।
আলেকজান্দ্রিয়া লাইব্রেরির বই শেষে কাজে লাগায় গোসলখানার জল গরম করার জন্য।
৬ মাসেরও বেশি সময় লাগে ১০ লাখের বেশি বই পোড়াতে।
হাইপেশিয়ার সব বই, গবেষণার সব নমুনা সেই লাইব্রেরির সাথে সাথে পুড়ে শেষ হয়ে গেছে। তার কাজের নমুনার বিশেষ কিছু নূতন পৃথিবীর মানুষ খুঁজে পায়নি - ভাসা ভাসা ভাবে নানা সূত্র থেকে কিছু তালিকা তৈরি করা হয়েছে। যে কোনো হিসেবে সেগুলো অসাধারণ।
ধর্মান্ধ মানুষেরা ইতিহাসের পাতা থেকে তার নাম মুছে দিতে পারেনি। আধুনিক মানুষ ভোলোনি হাইপেশিয়াকে। সম্মান প্রদর্শনের জন্য চাঁদের একটা অঞ্চলের নাম করা হয়েছে "𝗛𝘆𝗽𝗮𝘁𝗶𝗮"...
যতদিন আকাশে চাঁদ উঠবে, ততদিন হাইপেশিয়া পৃথিবীর মানুষের কাছে বেঁচে থাকবেন জ্ঞানের প্রতীক হয়ে 🙏🙏
সংগৃহীত
Comments
Post a Comment