বিশ্ব কবিতা দিবস
"ছাতিম ফুলের গন্ধ"( অনুগল্প)
কলমে অশ্রুকণা দাস।
অরুণা নতুন বউ হয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে খুব চেনা একটা গন্ধ অনুভব করল সন্ধ্যাবেলা।এক লহমায় মনটা আনন্দে ভরে উঠলো খুব আপন একটা কিছু সে পেয়েছে এইখানে। কালরাত্রি বাড়ী ভর্তি লোকজন, নতুন পরিবেশ,চেনা গন্ধে স্মৃতির সাগরে ডুবে গেল।
অরুণা ক্লাস সেভেনে পড়ে তখন ওর বাবা-মা এক দুর্ঘটনায় মারা যায়। ঠাকুরমা দাদুর পরিচর্চায় বড় হয়েছে। ছাতিমতলার অনেক গল্প, কথায়, মা বাবার স্মৃতি আঁকড়ে সে বড় হয়েছে। ভালো রেজাল্ট করে টুয়েলভ পাস করে। তারপর কলেজ হোস্টেল থেকে উচ্চ শিক্ষা লাভ করে চাকরিতে জয়েন করে। ঠাকুরমাকে দেখাশোনা করে। দাদু মারা গেছেন ঠাকুরমা বর্তমানে বাড়ি বিক্রি করে একটা বৃদ্ধাশ্রমে আছেন।
ইতিমধ্যে পলাশ একজন ব্যাঙ্ক কর্মী তার সাথে অরুণার আলাপ হয়। ধীরে ধীরে প্রেম ও পরিণয় সুত্রে শ্বশুড়বাড়ীতে আজ প্রথম রাত্রি অরুণার।
কালরাত্রি নতুন পরিবেশে অরুণার ঘুম হল না। কখন সকাল হবে? চেনা গন্ধ টা কোথা থেকে আসছে? তাকে দেখতেই হবে।
ভোরের আলো ফুটতেই চুপিচুপি উঠে জানলা খুলে দেখে একটা ছাতিম গাছ বাড়ির পিছনে। ভীষণ খুশি হল, ছাতিম গাছ জানে তার বাবা-মা পরিবারের গল্প।
এই ছাতিম গাছের আশীর্বাদে হয়তো সে পলাশকে পেয়েছে। পলাশের বাবা মায়ের মধ্যে নিজের বাবা মায়ের অভাব ঘুচে যাবে।ছাতিম ফুলের গন্ধে নিমেষেই সবাইকে আপন করে নিল সে।এখানেই তার নিজস্ব জায়গা।
অধিকাংশ মেয়েরাই স্বামীর বাবা-মায়ের মধ্যে নিজের বাবা মায়ের মতো স্নেহ ভালোবাসা খুঁজে পেতে চায়, কিন্তু মেয়েদের দুর্ভাগ্য তারা সেটা সব সময় পায়না।
Comments
Post a Comment