একাল ও সেকাল

এখন ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলা সিনেমা ও টিভি সিরিয়াল এর নবাগত তারকাদের ও সেলিব্রেটি দের দেখতে পাই বিদেশী দামি গাড়ি ও কয়েক কোটি টাকার ফ্লাটে বিলাসবহুল জীবনযাপন করেন। অথচ বাংলা সিনেমা কোন হলে দুই থেকে তিন দিনের বেশি চলে না। কয়েকটি ভালো সিনেমা নিশ্চয়ই চলে, সেখানে আবার দেখবেন সেখানে কোন নামি দামি অভিনেতা নেই। 

আমার ছোটবেলায় মামাবাড়িতে থাকার সময় দেখেছি সুখেন দাসকে ট্রামের সেকেন্ড ক্লাসে যেতে। অনুপ ঘোষাল, নিমু ভৌমিক, অসিত বরন, উজ্জ্বল সেনগুপ্ত (যীশু সেনগুপ্তর বাবা), তপেন চট্টোপাধ্যায়,প্রদীপ মুখোপাধ্যায়, পরিচালক গৌতম ঘোষ ( আমার সহপাঠী) আমাদের পাড়া দিয়ে হেটে যাতায়ত করত। ষাটের দশকের শেষ দিকে জ্যোতি বসুকে দেখতাম ১১০০ ডি ছোটো ফিয়াট গাড়ি নিজে চালিয়ে সিপিএমের নেতা মুজফফর আহমেদের লেক প্লেসের বাড়িতে আসতেন। কোন ড্রাইভার অথবা সিকিউরিটি গার্ড দেখিনি। তবে সত্তরের দশকে জ্যোতি বসুকে ড্রাইভার চালিয়ে নিয়ে আসত। উত্তম কুমার ছোটো ফিয়াট গাড়িতে চড়তে দেখতাম। সমিত ভন্জ আমাদের দুটো বাড়ির পড়ে একজনের বাড়িতে ট্যাক্সি করে আসত, তখন ও বিখ্যাত অভিনেতা। সত্তরের দশকে মুক্তগন থিয়েটারের সামনে রাত নটার সময় অল্প বূষ্টি হচ্ছে, অপর্ণা সেন ও বুলবুল চৌধুরী (পরিচালক পারথপ্রতিম চৌধুরীর স্ত্রী) নাটক দেখে বেড়িয়ে আমি ও আমার বন্ধু কে অনুরোধ করেন একটা ট্যাক্সি ডেকে দিতে। আমি আমার ব্যক্তিগত জীবন থেকে নিজের চোখে এদের অতি সাধারণ জীবন যাপন করতে দেখেছি। আর একটি ঘটনা ১৯৬৬ সাল আমাদের পাড়ায় একটি তিন কামড়ার ফ্রাট নিতে সৌমিত্র ভাড়া নিতে এসেছেন। বাড়ি আলা ৮০০ টাকা চেয়েছেন, সৌমিত্র দালাল কে বলছে  আমি ৬০০ র বেশি দিতে পারব না। বাড়ির মালিক রাজি না হওয়ায় সৌমিত্র বাড়ি ভাড়া নিলেন না। 

অরিজিত সিংহ এখন ভারতের সব থেকে নামি দামি গায়ক, বম্বেতে কাজ মিটিয়ে জংগীপুরে বৌ ছেলে মেয়ে নিয়ে থাকেন। সারা বহরমপুর স্কুটি তে ঘুরে বেড়ান। ছেলে মেয়েকে স্কুল থেকে বেশির ভাগ দিন স্কুটিতে নিয়ে বাড়ি ফেরেন। অতএব জীবন কে কিভাবে চালাবে সেটা তোমাকে স্থির করতে হবে। 
মান্না দে যখন মধ্য গগনে, কলকাতায় আসলে উত্তর কলকাতার বাড়ির রকে বসে লুংগি পরে আড্ডা দিতেন। এতে ওনাদের কারুর সন্মান হানি হয় নি, বরং আমাদের ঘরের লোক বলে মনে হয়েছে।


সংগৃহীত

Comments

Popular posts from this blog

কানপুরের জগন্নাথ মন্দির

শ্রীরামপুর - এর ইতিহাস ( ভাগ - ১ )