বিজ্ঞানী বিভা চৌধুরী
বিজ্ঞানী বিভা চৌধুরীর নামে তারার নামাঙ্কন করল জ্যোতির্বিজ্ঞানী সংস্থা
আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রনমিকাল ইউনিয়ন প্যারিসে এই কথা জানিয়েছে ।
৩৪০ আলোকবর্ষ দুরে একটি সাদা-হলদেটে বেঁটে তারা। প্রয়াত বিজ্ঞানী বিভা চৌধুরীর নামে তারাটির নাম বিভা লাইটবিম রেখেছে আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান সংঘ। সেক্সটান নক্ষত্রপূঞ্জের মধ্যে উপস্থিত বিভা। তার এক্সোপ্ল্যানেটের নাম দেওয়া হয়েছে সন্তোমশা (মেঘলা)। ভারতের আকাশ থেকে দুটিকেই দেখা যায়।
আমাদের সোলার সিস্টেমের বাইরে যেসব তারা আছে, তাদেরকে যেসব গ্রহ আবর্তন করে তাদের এক্সোপ্ল্যানেট বলা হয়। চলতি বছরে মাইকেল মেয়ার নোবেল পান ১৯৯৫ সালে এক্সোপ্ল্যানেট খুঁজে পাওয়ার জন্য। তারপর থেকে আকাশগঙ্গায় প্রায় ৪০০০ এক্সোপ্ল্যানেট খুঁজে পাওয়া গিয়েছে।
হোমি ভাবা ও বিক্রম সারাভাইয়ের সঙ্গে কাজ করেছিলেন বিভা চৌধুরী। নোবলজয়ী বৈজ্ঞানিক ব্ল্যাকেটের ল্যাবেও কাজ করেছেন তিনি। আজীবন গবেষণার সঙ্গে যুক্ত থাকা বিভাদেবীর পেপার প্রকাশ পেয়েছে নেচার সহ দেশ-বিদেশের নামীদামি প্রকাশনায়। তবুও ভারতে যোগ্য সম্মান পাননি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তনী।
দেবেন্দ্র মোহন বোসের তত্ত্বাবধানে গবেষণা শুরু করেন বিভাদেবী। তখনই ডিএম বোসের সঙ্গে পরপর তিনটি পেপার তাঁর নেচার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ফোটোগ্রাফিক প্লেট ব্যবহার করে মেসন আবিষ্কার করেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এমালশন প্লেটের অভাব হওয়ায় তাঁর কাজ আটকে গিয়েছিল। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করে প্ল্যান্কেটের ল্যাবে যোগ দেন তিনি। এরপর প্রায় আট বছর টিআইএফআরে কে-মেসন সংক্রান্ত গবেষণা করেন বিভাদেবী। ৬০-এর দশকে কেজিএফ প্রজেক্টে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল তাঁর।
কিন্তু তখনো বিজ্ঞান বিশেষত ভারতে ছিল অল মেনস ক্লাব। বিভিন্ন সময় পদে পদে বাধা পান বিভাদেবী। স্বেচ্ছাবসর নিয়ে কলকাতায় ফিরে নিজে থেকেই গবেষণায় ব্রতী হন তিনি। ১৯৯১ সালে মারা যাওয়ার কয়েক মাস আগেও নেচার পত্রিকায় তার পেপার ছাপা হয়েছিল। বাঙালিরা প্রায় তাঁর কথা ভুলে গেলেও অনেক দুরের আন্তর্জাতিক সংস্থার এই স্বীকৃতির ফলে আশা করা যায় নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যাবে বিভা চৌধুরীর কাজ।
বছরের শুরুতে International Astronomical Union (IAU) একটি প্রতিযোগিতা শুরু করে NameExoWorlds নামে। প্রতিটা দেশকে একটি তারা ও গ্রহের নাম দিতে বলা হয়। ভারতে এই প্রতিযোগিতা চালায় Astronomical Society of India-Public Outreach and Education Committee (ASI-POEC). ভারতকে HD 86081 তারা ও HD 86081b এক্সোপ্ল্যানেট দেওয়া হয়েছিল।
HD 86081 সূর্যের থেকেও পুরোনো, বেশি গরম ও বড়। বাইনোকুলার ও টেলিস্কোপের সাহায্যে দেখা যায় এটিকে। এক্সোপ্ল্যানেটটি জুপিটারের আয়তন ও ওজনের মতো হলেও অত্যন্ত গরম এটি। মাত্র দুদিনেই তারাকে প্রদক্ষিণ করে ফেলে এই এক্সোপ্ল্যানেটটি।
সংগৃহীত
Comments
Post a Comment