15 August 2022
" জয় হিন্দ "
জয় হিন্দ, বলে নেচে - নেচে বাড়ী ফিরতাম। ক'দিন ধরেই সাজো , সাজো রব থাকতো। জামা , জুতো, মোজা,মানে যা যা ইস্কুলে পরে যাই,সব টিপ টপ করে রাখতাম। কারণ ১৫ আগস্ট ইস্কুলে প্যারেড হবার পর শিক্ষক মশাই ঘুরে ঘুরে সবার ড্রেস চেক করতেন তারপর প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় যারা হতো তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হতো। কিছুটা হলেও জানতাম যারা বিদ্যালয়ের শিক্ষক বা শিক্ষিকা তাদের বাড়ীর কারুর হাতে পুরস্কার টা যাবে। পতাকা উত্তোলন, প্রার্থনা ও জনগণ মণ গেয়ে নিঃশ্বাস আটকে দাঁড়িয়ে থাকা, একটু নড়লেই বেতের বাড়ি খেতে হবে।তাতেও দুঃখ নেই কারণ সেদিন অনেক কিছু আমরা পেতাম আর সেগুলো বাড়ী নিয়ে এসে দেখানো টা আরো আনন্দের। একটা বড় রুমাল নিয়ে যেতাম কারণ ছোট হাত দুটো লজেন্সেই ভরে যেতো, তারপর বোদে, ঝুরি ভাজা মেশানো দেওয়া হতো, একবার নয় তিন বার তো পেতাম ই কখনো আরো বেশি, ইস্কুল থেকে বড় মাঠ সেখানে পতাকা উত্তোলন, রাষ্ট্রীয় সঙ্গীত গেয়ে, অফিস সেখানে গার্ডদের বন্দুক ছোড়া হতো , পতাকা উত্তোলন, রাষ্ট্রীয় সঙ্গীত এই ভাবে আরো একবার পতাকা উত্তোলন করে , কোথাও লজেন্স,বোদে ঝুরি ভাজা মেশানো, বেলুন নিয়ে সবাই নাচতে নাচতে বাড়ী ফিরতাম।দেখি তোকে কতটা দিয়েছে ইত্যাদি। কিছু নাম মুখস্থ হয়ে যেতো গান্ধীজী, বল্লভভাই প্যাটেল,লাল বাহাদুর শাস্ত্রী , সরোজিনী নাইডু, সুভাষ বোস ইত্যাদি।এই পর্যন্ত পরীক্ষায় আসলে এনাদের বিষয়ে কি লেখা যায় ভেবে উঠে পারতাম না।
ভারত স্বাধীন হয়েছিল এই সব ভাষণ শুনে ভালো লাগতো ঠিকই কিন্তু প্যারেড করে,গলা ফাটিয়ে জাতীয় সঙ্গীত গেয়ে তারপর সত্যি কারের নিজেদের খুব পরাধীন মনে হতো।যেই ছাড়ান পাওয়া আনন্দে আত্মহারা হয়ে সব বাড়ীর পথে। শৈশবের দিন মনে রাখার মতো। বড় হয়ে নিজেরা জ্ঞান ভারী হয়ে বাচ্চা দের হাতে পতাকা তুলে দিই ,যদি ফেলে দেয়,মানে পড়ে যায় শাষণ করতে ছাড়ি না। কিছু কিছু বাচ্চা ছোট ছোট পতাকা নিয়ে গাড়ী থামলে দৌড়ে আসে একটা নেবেন, চোখে মুখে উজ্জ্বলতার ছাপ , আবার স্বাধীন টাধীন বলে, স্বাধীনতার গুরুত্ব বোঝাতে চেষ্টা করে।নাই বা ইস্কুলে গেল আজকের দিনে দুটো টাকা তো পাওয়া যাবে।যারা এসি গাড়িতে বসে আছে কাচ নামানো মুস্কিল অবাক দৃষ্টিতে দেখে , এই পতাকা বিক্রি করে ক'টাকা পাবে, বা স্বাধীনতা একটি বিশেষ দিন নয় , তাদের তো রোজই স্বাধীনতা দিবস।যারা মধ্যবিত্ত তাঁরা ওই বালকদের কাছে সম্ভব হলে পতাকা কেনে , বাড়ীর ছোট শিশুটি খুশি হবে, আবার যে বিক্রি করছে তার একটু উপকার হবে।
" স্বাধীনতা মানে মুক্তি
চলে না গরীব লোকের যুক্তি
স্বাধীনতা এনেছে বড়লোকের স্বাচ্ছন্দ
গরীব লোকের তাতেও নেই কম আনন্দ "
আজকে সকলে মিলে শপথ নিই , ভারতের জয় হোক, গরীব বড়লোক সবাই নির্মিশেষে পতাকা উত্তোলন করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা রক্ষা করি , জয় হিন্দ ,জয় ভারত ।
……………………
Comments
Post a Comment