শুভ নববর্ষ ১৪২৯


দৈনিক কবিতা প্রতিযোগিতা
কবিতার শিরোনাম:'একটি মেয়ের গল্প'
কলমে:অরিজিৎ ঘোষ (০৯/০৮/২১).

সেই মেয়েটা বলেছিল,এটা আমার বাড়ি আমি সাজাবো,সাজাবো আমার মনের মতন।
সেই মেয়েটা বলেছিল,এটাই আমার বিছানা,আমিই শোবো,এটাই আমার পাশবালিশ।
সেই মেয়েটা বলেছিল,এটা আমার বাগান,এর ফুলগুলো আমার খুব আদরের।
সেই মেয়েটা বলেছিল এই উঠোনটুকু আমার, এখানে দাঁড়িয়েই আমি চিৎকার করে হাসবো।
সেই মেয়েটা বলেছিল এই বইগুলো আমার, আমার নিত্যদিনের সঙ্গী,সুখ দুঃখের সঙ্গী।
সেই মেয়েটা বলেছিল,এই ঠাকুরঘরটাও আমার, আমার শান্তির নীড়,এখানেই আমি চুপ করে বসে থাকবো আমার যতক্ষণ ভালো লাগে।
সেই মেয়েটা বলেছিল ওই থালাটাই আমার চাই, ওটাতেই আমি ভাত খাবো,
সেই মেয়েটা বলেছিল,আমি শুধু অস্মিতকেই ভালোবাসি,ওই আমার সব।
দিন পেরিয়ে আবার দিন,আবার রাত,ছোট থেকে তার বড় হওয়া,সবাই ছিল চুপ,নীরব সম্মতি না অসম্মতি- সে অর্থ আজও দুর্বোধ্য অজানার অন্ধকারে নিক্ষিপ্ত নিত্যদিনের সত্যি।
একদিন ঘরের লক্ষী বিদেয় হলো,বাজলো বাঁশি, সাজলো বাড়ি,জ্বললো আলো,কত লোক পেটপুরে খেলো,বইলো আশীর্বাদের বন্যা,
দ্বিতীয় জীবন--যেভাবে হোক সবাইকে খুশী করতেই হবে,দায়িত্বটা একমাত্র তার।
সে অনেক কিছুই বলতে বাধ্য হয়েছিল,
সেই মেয়েটা বলেছিল,এটা আমার বিছানা নয়,তবু আমাকে এখানেই ঘুমোতে হবে,সবের ঘুম।
সেই মেয়েটা বলেছিল,এটা আমার বাড়ি নয়,কিন্তু তাকে পেন্ডুলামের মত দুলতেই হবে,অন্যথা নয়।
সেই মেয়েটা বলেছিল,এটা আমার জানালা নয়, এতে আমি আকাশ দেখতে চাই না কিন্তু আমাকে এখানেই দেখতে হবে আকাশ,
সেই মেয়েটা বলেছিল,এটা আমার উঠোন নয়,তবু আমাকে সন্ধ্যার আকাশে এখানেই তারা দেখতে হবে,এখানেই আমার চলাচল।
সেই মেয়েটা বলেছিল,এটা আমার ঘাট নয়,আমি এখানে জলে নেমে গা ভেজাবো না,তবু তার কথা খাটে না,তাকে গা ভেজাতেই হতো।
সেই মেয়েটাই বলেছিল,আজ আমার মন খারাপ, আমি এই মেঘের বৃষ্টিতে ভিজবো না,তবু তাকে একজনের মন রাখতে হয়েছিল কারণ সে নাকি তার প্রিয় কবিতা।
সেই মেয়েটাই বলেছিল,এটা আমার রান্নাঘর নয়,তবু সে অন্যের পেট ভরায় নিজের পেটও ভরে।
বেশ কিছুদিন পর--
সেই মেয়েটা বলেছিল,এগুলোই আমার দুঃখের দাগ,এ দাগ আমি মুছবো না,সে দাগ তাই গতানুগতিক,দেখার মত চোখ ? সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন,সেটাই সবচেয়ে জীবনের জটিল অংক।
দিন যায় রাত যায়,মেয়েটা আস্তে আস্তে পাল্টায়,
অবশেষে সেই মেয়েটির অসহিষ্ণু গর্জন,
সব গেল পাল্টে,বাধ্য হয়েই সে আজ রুদ্রাণী,
তবুও শেষমেষ তাকে কাঁদতেই হল,
তার কান্না মিশে আছে বাতাসে,স্তব্ধ চারিধার,
বারবার তারা হারিয়ে যায়,
পৃথিবীর চলে অবিরাম ঘূর্ণন।

Comments

Popular posts from this blog

কানপুরের জগন্নাথ মন্দির

শ্রীরামপুর - এর ইতিহাস ( ভাগ - ১ )