Mahalaya


শিরোনামঃ- পিতৃতর্পণ
কলমে:- কৃষ্ণা চক্রবর্তী
জামশেদপুর
****************
আনন্দের স্বপ্ন দেখতে দেখতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। দেওয়াল ঘড়িটা ঢং ঢং করে ডেকে উঠল চার বার। হঠাৎ কানে আসে শঙ্খের আওয়াজ, পাশ থেকে ঠাকুমার হাঁক ডাক "ওরে ওঠরে সবাই ওঠ মহালয়া শুরু হয়ে গেছে"। তার পর সেই গান.. 
"যা.... মধুকৈটভারে..." 
 মনে পড়ে যায় ত্রিনয়নী মায়ের মুখ।
তার পর...
সেই অতি পরিচিত বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের কন্ঠে ভেসে ওঠে আপামোর বাঙালীর ঘরে ঘরে।
"আশ্বিনের শারদ প্রাতে বেজে উঠেছে আলোক মঞ্জিত,ধরণীর বহিরাকাশে অন্তরিত মেঘমালা.... জ্যোতির্ময়ী জগৎ মাতার আগমন যাত্রা....
আনন্দময়ী মহামায়ার পদধ্বনি বেজে উঠেছে...."
এ শব্দ কন্ঠ মিশে গেছে আমাদের শরীরের প্রতিটি রক্ত কণায়। আধভেজা চোখে মহালয়ার ভোর টা যেন মিষ্টি মিষ্টি লাগত। নাকে ভেসে আসত শিউলির গন্ধ। তরঙ্গের সাথে খেলা করে বাতাস, পদ্মের পাঁপড়িতে বিন্দু বিন্দু শিশির কণা ধুয়ে দেয় মায়ের আলতা রাঙা পা। বাঙালির হৃদয়ে তখন শুধু  আনন্দের ঢেউ, জগত মাতা আসছেন। 
মা গঙ্গা ও অভিনন্দন জানিয়ে মেলে ধরেছেন নিজেকে। পূর্ব পুরুষদের চোখে লম্বা প্রশ্ন...
তাঁরাও নাকি নেমে আসেন এই দিন, সুপুত্র হোক বা কুপুত্র, জল খেয়ে যান ওই দিনে, দেখে যান তাঁর উত্তর সুরি কতদূর এগোলো। দেখতে কেমন ?
সত্যিই কি তাই হয় ? জানি না। শুধু জানি মন শান্ত তো সব শান্তি। মহালয়া শোনায় যখন ব্যস্ত, তখন দেখতাম দাদুকে পিতৃতর্পণের জন্য গঙ্গায় যাওয়ার জন্য তৈরি হতে,
আমিও গেছিলাম একবার দাদুর সাথে। আহা অসাধারণ লাগে ভোরের গঙ্গাকে পবিত্র স্নিগ্ধ শান্ত মধুর। দিবাকরের উদয়ের আগের মুহূর্তে অপূর্ব সে দৃশ্য দেখে চোখ জুড়িয়ে যায়। 
পূর্ব পুরুষদের আগমনের কারণেই হয়তো এই ভোর আরো পবিত্র হয়ে ওঠে। হয়ে ওঠে শুভ মহালয়া।

Comments

Popular posts from this blog

কানপুরের জগন্নাথ মন্দির

শ্রীরামপুর - এর ইতিহাস ( ভাগ - ১ )