বিশ্ব জল দিবস


পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত থাকত লেক, এখন
ভ্যানিসড!

গতকাল ছিল বিশ্ব জলদিবস, একটি করুণ প্রতিবেদন। 

খল নায়ক  এল নিনোর জন‍্য বলিভিয়ার প্রাণ-চাঞ্চল্যের বিশাল হ্রদ 'পুপু' বর্তমানে 
মরুভূমির পথে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।

বলিভিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম হ্রদ পুপু হ্রদকে স্থানীয়রা ডাকে লাগু পুপু নামে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১২ হাজার ৯০ ফুট উঁচু এই হ্রদের অবস্থান বলিভিয়ার মধ্য-পশ্চিম অঞ্চলে। প্রায় ৯৭৭ বর্গমাইল অঞ্চলজুড়ে অবস্থিত এই হ্রদের গভীরতা গড়ে প্রায় ৮-১০ ফুট। বিখ্যাত টিটিকাকা হ্রদে থেকে উদ্ভূত দেসাগুয়াদেরো নদীর জল ছিল এই হ্রদের প্রধান জলের উৎস।

যতদূর চোখ যায় শুধু জল আর জল। হ্রদের অর্ধস্বচ্ছ নীল জলের বুকে হাজার হাজার ডিঙি নৌকা ভেসে বেড়াচ্ছে। ভরা মৌসুমে জলের বুকে হাজারো মাছের প্রাচুর্য জেলেদের হাতছানি দিয়ে ডাকে। তখন রাত-দিনব্যাপী মাছ ধরার ধুম পড়ে যায়। সেই মাছ ধরে স্থানীয় বাজারে উপযুক্ত মূল্যে বিক্রি করে জেলেরা। মাছ বিক্রির টাকায় দুই বেলা খেয়েপড়ে দিন গুজরান করে তারা। সামান্য বিশ্রামের পর পুনরায় ঝাঁপিয়ে পড়ে বলিভিয়ার অন্যতম হ্রদ পুপুর বুকে।

দিনের আলো নিভে যাওয়ার পর জ্বলে ওঠে জেলেদের আলো। ডিঙি নৌকায় মিটিমিটি করে জ্বলতে থাকা প্রদীপের আলোয় তারা মাছ ধরে বেড়ায়। এক অদম্য সংগ্রামের মাঝে চিত্রায়িত হয় এক অপরূপ গাঁথা। তাদের শ্রমে সচল থাকে বলিভিয়ার মৎস্য অর্থনীতি।

হ্রদের জল ছাড়াও পুপুর অন্যতম প্রধান সম্পদ ছিল এর জীববৈচিত্র্য। প্রায় ৩৪ প্রজাতির পাখির কিচিরমিচিরে মুখরিত থাকতো পুপুর পরিবেশ। স্থানীয় প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, পুপুর গভীর জলে চারটি বিরল প্রজাতির মাছ ছাড়াও বিভিন্ন লোনা জলের মাছ পাওয়া যেত। 

কীভাবে পুপুর মতো বিশাল একটি হ্রদ চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল? এ প্রশ্নের জবাবে বলিভিয়া সরকার এক বিবৃতি প্রদান করেন। বিবৃতিতে এর পেছনে দায়ী এক দুর্ধর্ষ খলনায়কের নাম প্রকাশ করা হয়। আমেরিকা অঞ্চলের আবহাওয়ার সাথে সুপরিচিত এই খলনায়কের নাম ‘এল নিনো ‘!

নাম শুনে কোনো ওয়েস্টার্নের খলনায়কের ক্রুর হাসির শব্দ কল্পনায় প্রতিধ্বনিত হলেও বাস্তবে এল নিনো একটি প্রাকৃতিক ঘটনা। আমেরিকা মহাদেশজুড়ে শীতকালের পর পরই জলাশয়বেষ্টিত বিষুবরেখা বরাবর অবস্থিত অঞ্চলসমূহে অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বিপুল পরিমাণ জল বাষ্পীভূত হয়ে যায়। এই ঘটনাকে আবহাওয়াবিদগণ এল নিনো নামে ডাকেন। 

কয়েক মাস ব্যাপী খরার ফলে বিষুবরেখা বরাবর প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলসহ আমেরিকা মহাদেশের জলবায়ু, সমুদ্রে জলের পরিমাণ এবং সামুদ্রিক জীব-বৈচিত্র্যের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে। বিজ্ঞানীরাও এল নিনোকে পুপু হ্রদ বিপর্যয়ের প্রধান আসামী হিসেবে কাঠগড়ায় তুলছেন।

আমাদের দেশেও নদীগুলির অবস্থা বেশ খারাপ। যমুনার মতো অনেক নদী মৃতপ্রায়, বিশেষকরে দক্ষিণের নদীগুলি। বাংলার সরস্বতী নদী মারা গেছে। কাজেই শুধু বলিভিয়ার পুপু নয় আমরাও ভারতের নদী আর হ্রদ নিয়ে কিছু ভাবনা চিন্তা করতে হবে ।



 উদ‍্যো্রি্যো্্যো্রি্য্য্যো্রি্যো্্যো্রি্য্যো্রি্যো্্যো্রি্য্য্যো্রি্যো্্যো্রি্              

সংগৃহীত

Comments

Popular posts from this blog

কানপুরের জগন্নাথ মন্দির

শ্রীরামপুর - এর ইতিহাস ( ভাগ - ১ )