Mahalaya


মহালয়ার একটি ভোর
প্রনতি তালুকদার 
৪/১০/২০২১

আবার উঠবে জেগে এই কালো 
মেঘ সরে গিয়ে দেখা দেবে শরতের আকাশে ভোর।
আজ ঝড় ঝঞ্ঝা কেটে গিয়ে নীল নীলিমার 
ঢেকে যাবে আকাশ।
নদীর গভীরে ঢুবে যায় আজকের সূর্য। 
প্রান্তরের কিনারে দাঁড়িয়ে তুমি মুখোমুখি শরতের 
রাতে। গভীর রাতে লক্ষ লক্ষ লোকের কোলাহল।
সব স্তব্ধ হয়ে আছে যেন হয়ে আছে গাছের পাখিরা। 
রাতজাগা পাখি ডাকতে ডাকতে চলে গেল অনেক 
দূরে। কিন্তু আজও পাখিরা সোনালী আলো টের পায় 
ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় সেই আলোর দিকে। 
আজ মহালয়া, কিন্তু এখনো আকাশ কালোই হয়ে 
আছে। চারিদিকে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের কণ্ঠে  শুরু 
হয়ে গেছে রেডিওতে মহালয়া ।তবে এখন সব বাড়ির থেকে সেই সুর ভেসে আসে না। কারণ এখন মোবাইল বা কম্পিউটারের যুগ, তবুও শোনা যাচ্ছে। 
আর অনেক অনেক বছর আগে পাড়া, গাঁ, শহর
গমগম করতো।তাও তো শোনা যাচ্ছে! সেই সুর সেই 
গলা শুনলে এখনো গাঁয়ে কাঁটা দেয়।
মহালয়ার ভোরে তখনো ভালো করে 
আলো ফোটেনি, মন্দিরের পুরোহিত ভবেন চাটুয্যে 
তর্পণ করতে এসেছেন। তর্পণ শেষ হলেও
সূর্যদেবের দেখা নেই, দেখা দেবেন কি না 
তিনিই জানেন, পারে উঠে পুব দিকে তাকিয়ে 
সূর্য প্রনাম করলেন।( ওঁ জবাকুসুমসঙ্কাশং 
কাশ্যপেয়ং মহাদ্যুতিম,ধান্তারীং সর্বপাপঘ্নং
প্রণোতহষ্মিং দিবাকরম) 
শরতের আকাশ দেখে মনটা বড়ো অস্থির হয়ে ওঠে। 
গামছাটা ঘাড়ে ফেলে বাড়ির দিকে চলে যায়। 
এই মনে হয় প্রথমবার যে মহালয়ার দিন রাস্তায় 
একজনও মানুষ নেই। 
অবাক হয়ে গেলেন, হঠাৎ ইকবালের সঙ্গে দেখা,
জিজ্ঞেস করলেন কি রে কোথায় চললি? 
সে হেঁসে উত্তর দিল কারখানায় যাচ্ছি গো দাঠাকুর।
আজ আবার  মায়ের চক্ষুদান আছে না!
 এরমধ্যেই ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা 
 কুমোরপাড়ায় ভীড় করেছে।
 আর ভবেনবাবু মন্দিরের দিকে চলে গেল। 
 এখন তাদের ভীষণ মজা।
 এই মহালয়ায় আমরা খুব আনন্দ করতাম 
 এখন সে সব হয় না। 
 বাবা কাকারা চলে যেত তর্পণ করতে, আর
 আমরা যেতাম বাগানে বাগানে ফুল তুলতে।
 সেই দিনগুলো ভীষণ ভালো ছিল। 
 এই দিনটা পিতৃপক্ষের অবসান 
 আর দেবীপক্ষের শুরু।

Comments

Popular posts from this blog

কানপুরের জগন্নাথ মন্দির

শ্রীরামপুর - এর ইতিহাস ( ভাগ - ১ )